Skip to main content

স্টেম সেল (Stem Cell) টেকনোলজিঃ ডায়াবেটিস চিকিৎসার নতুন দিগন্ত

অতি সম্প্রতি চীনের তিয়ানজিন (Tianjin) অঞ্চলে বসবাসকারী টাইপ-১ ডায়াবেটিসে (T1D) আক্রান্ত এক ২৫ বছর বয়স্ক যুবতীর শরীরে রিপ্রোগ্রামড স্টেম সেল থেরাপীর (Reprogrammed Cell Therapy) মাধ্যমে নতুন করে ইনসুলিনের উৎপাদন শুরু করা সম্ভব হয়েছে।

এমনটাই জানিয়েছে ইউরোপিয়ান মেডিক্যাল জার্নাল (European Medical Journal -- EMJ), বিশ্বখ্যাত সায়েন্স জার্নাল ন্যাচার (Nature), এবং সেল (Cell)। এর মাধ্যমে উন্মোচিত হয়েছে মেডিক্যাল সায়েন্সের এক নতুন দিগন্ত --- এমনটাই দাবী বিশেষজ্ঞদের। 



রোগীর নিজের শরীরের ফ্যাট থেকে সংগ্রহ করা স্টেম সেল বিশেষ উপায়ে রিপ্রোগ্রাম করে পুনরায় তার তলপেটে স্থাপন করা হয়। গোটা দুনিয়াতে তিনিই প্রথম ব্যক্তি যিনি এই বিশেষ পদ্ধতিতে ডায়াবেটিস থেকে মুক্তি পাবার পথে আছেন। 


এই বিশেষ রিপ্রোগ্রামিং পদ্ধতির উদ্ভাবক হলেন জাপানের কিয়োটো ইউনিভার্সিটির (Kyoto University) শিনইয়া ইয়ামানাকা (Shinya Yamanaka) । তিনি এই বিশেষ পদ্ধতির উদ্ভাবন করেন প্রায় দুই দশক আগে। 


তার এই পদ্ধতি মডিফাই করে সেটার ওপর প্রথম ট্রায়াল চালান বেইজিং এর পিকিং ইউনিভার্সিটির (Peking University) সেল বায়োলজিস্ট ডেং হংকুই (Deng Hongkui)।


প্রথমে তারা ট্রায়াল চালিয়েছেন ইঁদুর আর অন্যান্য প্রাইমেটের ওপরে। 


পরবর্তীতে তিনি ও তার সহকর্মীরা তিনজন মানুষের শরীর থেকে স্টেম সেল সংগ্রহ করে সেগুলোকে এক বিশেষ অবস্থায় নিয়ে যান, যার নাম প্লুরিপোটেন্ট স্টেট (Pluripotent State), যেখান থেকে তাদের ইচ্ছেমত শরীরের যে কোন ধরনের কোষে পরিণত করা সম্ভব। 


এই গোটা পদ্ধতিটা দেখতে খানিকটা এমনঃ


টাইপ ১ ডায়াবেটিস হলে কিছু কিছু মানুষের ইমিউন সিস্টেম (Immune System) তাদের নিজেদের প্যানক্রিয়াস বা অগ্ন্যাশয়কে (Pancreas) আক্রমন করা শুরু করে। ফলে ক্ষতিগ্রস্থ হয়ে তাদের আইসলেট সেল (Islet cells)


এই আইসলেট সেল থেকেই শরীর তার প্রয়োজনীয় ইনসুলিন উৎপাদন করে। 


ফলে শরীর নিজে থেকে ইনসুলিন উৎপাদন করা বন্ধ করে দেয়। অনেকের ক্ষেত্রেই এই সমস্যা শুরু হয় একদম ছোটবেলা থেকেই, আর এই কারণে তাদের কৃত্রিম ইনসুলিনের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়তে হয়। 


আর টাইপ ২ ডায়াবেটিসে শরীর তার নিজের ইনসুলিন উৎপন্ন করে ঠিকই, কিন্তু তা প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম, অথবা সেটা কাজ করাই বন্ধ করে দেয়। 


এতোদিন পর্যন্ত এই সমস্যার স্বল্প মেয়াদে চিকিৎসা ছিলো ইনসুলিন ইনজেকশনের মাধ্যমে ব্লাড শ্যুগারের মাত্রা নিয়ন্ত্রনে রাখা, আর দীর্ঘস্থায়ী সমাধান ছিলো অন্য কারো শরীর থেকে অগ্ন্যাশয় এনে রোগীর শরীরে প্রতিস্থাপন করা। 

কিন্তু সেখানেও আছে বেশ কিছু ঝুঁকি।


একে তো রোগীর জন্য মানানসই অগ্ন্যাশয় ডোনার বা দাতা খুঁজে পাওয়া বেশ কঠিন, আবার অনেক ক্ষেত্রেই নতুন অগ্ন্যাশয়কে রোগীর শরীরের ইমিউন সিস্টেম আক্রমন করা শুরু করে।


ফলে রোগীকে নিজের ইমিউন সিস্টেম দুর্বল করে রাখার জন্য স্পেশাল ঔষধ খাওয়া লাগে


গত কয়েক দশকের স্টেম সেল প্রযুক্তির (Stem Cell Technology) গবেষণা এই সমস্যার একটা স্থায়ী সমাধানের দিকে ইঙ্গিত দিচ্ছিলো। স্টেম সেল হচ্ছে বিশেষ ধরনের কোষ, যা থেকে শরীরের অন্যান্য টাইপের কোষ উৎপন্ন করা সম্ভব। 


ইতিমধ্যে বিজ্ঞানীরা এমন এক পদ্ধতি আবিষ্কার করেছেন, যার মাধ্যমে এই স্টেম সেল থেকে শরীরের প্রায় সব ধরনের কোষ আর টিস্যু উৎপাদন করা সম্ভব। পরবর্তীতে এই টিস্যু দিয়ে বদলে দেয়া যাবে শরীরের অন্যান্য ক্ষতিগ্রস্থ টিস্যু। 

এই বিশেষ পদ্ধতির সর্বপ্রথম প্রয়োগ দেখা যায় এই বছরের এপ্রিলে, চীনের সাংহাই (Shanghai) প্রদেশে।


সেখানে একজন ৫৯ বছর বয়স্ক টাইপ-২ ডায়াবেটিস রোগীর শরীর থেকে স্টেম সেল নিয়ে সেটা রিপ্রোগ্রাম করে আবার তার শরীরে প্রবেশ করানো হয়। সেই রোগীও তার পর থেকেই ইনসুলিন নেয়া ছাড়াই সুস্থ আছেন।  


নিচের ছবিতে ইনসুলিন উৎপাদনকারী আইসলেট সেলগুলো দেখানো হলঃ



চীনের তিয়াজিন ফার্স্ট সেন্ট্রাল হসপিটালে (Tianjin First Central Hospital) চালানো এই বিশেষ মেডিক্যাল ট্রায়ালে রোগীর শরীর থেকে প্রথমে স্টেম সেল সংগ্রহ করা হয়।

তারপর এই স্টেম সেলগুলোকে ট্রান্সক্রিপশন ফ্যাক্টর (Transcription Factors) নামের বিশেষ ধরনের অণুর প্রভাবে আইসলেট সেলে পরিণত করা হয়। 


এরপর এই আইসলেট সেলগুলোকে উপযুক্ত পরিবেশে বেড়ে ওঠা নিশ্চিত করে হয়। যখন পর্যাপ্ত সংখ্যক কোষ উৎপাদন হয়ে যায়, তখন সেই আইসলেট সেলগুলোকে আবার রোগীর দেহে প্রবেশ করিয়ে দেয়া হয়, ক্ষতিগ্রস্থ কোষগুলোকে প্রতিস্থাপন করার জন্য। 


এতে করে সেই ক্ষতিগ্রস্থ অঙ্গ আস্তে আস্তে তাদের স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে যায়, আর শরীরে আবার আগেই মতই ইনসুলিন উৎপাদন শুরু হয়। 


এই স্পেশাল ট্রায়ালেও ঠিক একই কাজ করা হয়েছে। রোগীর শরীর থেকে স্টেম সেল সংগ্রহ করে তাদের পরিণত করা হয়েছে আইসলেট সেলে।


তারপর প্রায় দেড় মিলিয়ন আইসলেট সেল পুনরায় প্রবেশ করানো হয়েছে রোগীর তলপেটে। 



এর প্রায় আড়াই মাস (৭৫ দিন) পর থেকেই দেখা গেছে রোগী তার নিজের শরীরে ইনসুলিন উৎপাদন নতুন করে শুরু করতে সক্ষম হয়েছেন। 

শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত, এই বিশেষ অপারেশন (ট্রায়াল) সম্পন্ন হবার পর প্রায় এক বছর পেরিয়ে গেলেও রোগীর শরীরে কোন ধরনের অস্বাভাবিকতা বা জটিলতা দেখা যায় নি।

কানাডার ইউনিভার্সিটি অফ এলবার্টার (University of Alberta) ট্রান্সপ্ল্যান্ট সার্জন এবং অধ্যাপক জেমস শেপিরো (James Shapiro) বলেন “এই সার্জারির ফলাফল খুবই চমৎকার। গবেষকেরা এমন রোগীর শরীর থেকে ডায়াবেটিস পুরোপুরি সরিয়ে দিতে পেরেছেন, যে কিনা আগে অনেক বেশি পরিমানে ইনসুলিনের ওপর নির্ভরশীল ছিলো।” ফলে মানব ইতিহাসে সর্বপ্রথম কোন টাইপ-১ ডায়াবেটিস রোগী সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে গেছেন এবং গ্লাইসেমিক কন্ট্রোল (HbA1c) ফিরে পেয়েছেন বলে ধারণা করছেন বিশেষজ্ঞরা। নিচের ছবিতে সেই রোগীর ইনসুলিন নির্ভরতার হার কমে যাবার একটা চিত্র দেখা যায়ঃ


এই ঘটনায় উচ্ছাস প্রকাশ করে স্ক্রাইপস রিসার্চ ট্রান্সলেশনাল ইন্সটিটিউটের  (Scripps Research Translational Institute) পরিচালক এবং মলিকিউলার মেডিসিনের অধ্যাপক এরিক টপল (Eric Topol) তার এক্স (সাবেক টুইটার) পোস্টে বলেন,


এটি আমাদের টাইপ-১ ডায়াবেটিসের চিকিৎসার জন্য দারুন এক অগ্রগতি।


তবে গবেষকেরা সতর্কতা জানিয়েছেন এই বলে যে, এই বিষয়ে রোগীকে আরো বেশ কিছুদিন মনিটর করার দরকার আছে। এর ফলে আমরা এই নতুন চিকিৎসা পদ্ধতির কার্যকারিতা সম্পর্কে আরো ভালো ধারণা পাবো। 


এছাড়াও রোগী আগে থেকেই নিজের ইমিউন সিস্টেম দুর্বল (Suppress) করে রাখার ঔষধ নিচ্ছিলেন। এখন দেখার বিষয় হচ্ছে সেই ঔষধ বন্ধ করলে রোগীর ইমিউন সিস্টেম নতুন করে তার আইসলেট সেলগুলোকে আক্রমন করা শুরু করে কি না। 


বর্তমানে চিকিৎসকেরা রোগীকে আরো এক বছর পর্যবেক্ষণে রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।


তবে অন্তত পাঁচ বছরের আগে কোন নির্দিষ্ট সিদ্ধান্তে আসা যাবে না বলে মনে করেন যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডাতে অবস্থিত ইউনিভার্সিটি অফ মিয়ামির (University of Miami) এন্ডোক্রাইনোলজিস্ট জে স্কাইলার (Jay Skyler)। 


তিনি আরো বলেন, “এই পদ্ধতি অন্যান্য রোগীর ওপরেও প্রয়োগ করে দেখা দরকার আছে।” কিন্তু আশার কথা হচ্ছে, একই ট্রায়ালে থাকা অন্য দুইজন রোগীও সুস্থতার পথেই আছেন। তারাও নভেম্বরে তাদের সার্জারির এক বছর পার করে ফেলেছেন। 



তারা প্ল্যান করছেন ভবিষ্যতে আরো ১২-২০ জন রোগীর ওপরে এই পদ্ধতি প্রয়োগ করার। এছাড়াও টাইপ-১ ডায়াবেটিস মোকাবেলায় এই স্টেম সেল ট্রান্সপ্ল্যান্ট পদ্ধতির সুবিধা-অসুবিধা নিয়ে আরো বিস্তারিত গবেষণা দরকার বলেও জানিয়েছেন বিজ্ঞানীরা। 


যদিও রোগীর নিজের স্টেম সেল ব্যবহার করা সুবিধাজনক, তবে এই পদ্ধতি খানিকটা জটিল এবং বাজারে সহজলভ্য করার জন্য চ্যলেঞ্জিং বলে জানান বিজ্ঞানীরা।


তাই বেশ কিছু বিজ্ঞানীদের দল কাজ করছেন ডোনার সেল থেকে আইসলেট সেল তৈরি করার কাজ নিয়ে।  


বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টনে অবস্থিত ভারটেক্স ফার্মাসিউটিক্যাল (Vertex Pharmaceuticals) এই বিষয়ে বিস্তারিত গবেষণা চালাচ্ছে। তারা লিভারের পরিবর্তে রোগীর তলপেটে আইসলেট কোষ বসিয়ে দেখছে। 


কারন, এতে করে তারা ভালোভাবে সেই কোষগুলো পর্যবেক্ষণ করতে পারছেন, আর কোন সমস্যা হলে দ্রুত জরুরী ব্যবস্থা নিতে পারছেন।


সেখানকার গবেষকেরা ইতিমধ্যে প্রায় ডজনখানেক রোগীর ওপর ট্রায়াল চালিয়েছেন, আর তাদের সবাই প্রায় তিন মাসের মধ্যেই নিজেদের শরীরে ইনসুলিন পুনরায় উৎপন্ন করতে সক্ষম হয়েছেন।


এদের মধ্যে কেউ কেউ ইনসুলিনের ওপর নির্ভরশীলতা পুরোপুরিই দূর করতে পেরেছেন। 

এছাড়াও ভারটেক্স এমন আরেক টেকনোলজি নিয়ে কাজ করছেন, যেখানে ডোনার সেল থেকে উৎপন্ন আইসলেট কোষ এক ধরনের বিশেষ ডিভাইসের ভেতরে স্থাপন করা হয়। এই বিশেষ ডিভাইস আইসলেট কোষগুলোকে রোগীর ইমিউন সিস্টেমের আক্রমন থেকে রক্ষা করে। তবে এই টেকনোলজি নিয়ে গবেষণা এখনো চলছে।



ধারণা করা হচ্ছে, এই পদ্ধতি ঠিকঠাক কাজ করলে জলদিই পৃথিবীজুড়ে অসংখ্য টাইপ-১ ডায়াবেটিস রোগী ফিরে যেতে পারবেন তাদের সুস্থ স্বাভাবিক জীবনে, দীর্ঘ মেয়াদে ইনসুলিন ইঞ্জেকশনের ওপর নির্ভর করা ছাড়াই। আবার, রোগীর নিজের সেল ব্যবহার করায় ইমিউন সিস্টেম রিজেকশনের ভয়ও থাকছে না। তাই রোগীকে নিজের ইমিউন সিস্টেম দুর্বল করে রাখার জন্য ঔষধও খাওয়া লাগবে না বলেও আশা করছেন বিজ্ঞানীরা। তথ্যসুত্রঃ 

Woman’s diabetes reversed after world-first stem cell transplant | The Independent

Stem cells reverse woman’s diabetes — a world first

tem-Cell Therapy Success in China Marks Milestone in Type 1 Diabetes Treatment - EMJ


Comments

Popular posts from this blog

পৃথিবীর আকাশে ৭ গ্রহের দুর্লভ মিলনমেলাঃ দেখা যাবে খালি চোখেই

বাঘে মহিষে এক ঘাটে পানি খাবার কথা তো আমরা অনেকেই শুনেছি। কিন্তু খালি চোখে রাতের আকাশে ২/৩ টার বেশি গ্রহ একসাথে কবে দেখছেন মনে করতে পারবেন? সেই সম্ভাবনা আসলে খুব একটা বেশি না। তবে আপনি যদি মহাকাশ সম্পর্কে আগ্রহী হন, তবে আপনার জন্য রয়েছে দারুন এক সুসংবাদ। আর অল্প কিছুদিনের মধ্যেই এমন কিছু খালি চোখে দেখার সুযোগ আসছে। কিভাবে? আসুন জেনে নেই বিস্তারিত বর্তমানে, মানে ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে এসে আমাদের সৌরজগতের ৬ টি গ্রহ রাতের আকাশে খুব কাছাকাছি অবস্থান করছে। গ্রহগুলো হচ্ছেঃ মঙ্গল (Mars), বৃহস্পতি (Jupiter), ইউরেনাস (Uranus), শনি (Saturn), আর নেপচুন (Neptune)। গত বছরের ডিসেম্বর থেকেই একে একে পৃথিবীর আকাশে দৃশ্যমান হতে শুরু করে এই গ্রহগুলো। দেখে মনে হয় যেন গ্রহগুলো আকাশের এক মাথা থেকে অন্য মাথায় এক বেঁকে যাওয়া লাইনে সারি বেধে অবস্থান নিতে শুরু করে। এই ঘটনার নাম “প্ল্যানেটরি প্যারেড (Planetary Parade)” সাধারণত, ২ বা ৩টা গ্রহের এক লাইনে চলে আসা খুব দুর্লভ কিছু না , কিন্তু যতই এই সারিতে গ্রহের সংখ্যা বাড়তে থাকে, ততই তা আরো দুর্লভ হতে থাকে। ৪ বা ৫ টি গ্রহের একই লাইনে চলে আসতে প্রায় ১৫-২০ বছর সময় লা...

অতিরিক্ত জনসংখ্যাঃ জনবিস্ফোরণের কারণ, ফলাফল, এবং ভবিষ্যৎ

আমাদের মানুষদের সংখ্যা দিন দিন যেন আকাশ ছুঁতে চাইছে। ইতিহাসের কখনোই আমাদের পৃথিবীতে এখনকার মত এত মানুষ ছিলো না।  ১৮০০ সালে আমরা ছিলাম মাত্র ১ বিলিয়ন, ১৯৪০ সালে হয়ে দাঁড়ালাম ২.৪ বিলিয়ন, ১৯৭০ নাগাদ হলাম ৩.৭ বিলিয়ন আর ২০১৮ নাগাদ আমাদের সংখ্যা হল প্রায় ৮ বিলিয়ন।  ২০২৪ সালের শেষে এসে আমাদের পৃথিবীর বর্তমান জনসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৮.২ বিলিয়নে।  অর্থাৎ, গত একশ বছরে আমাদের জনসংখ্যা বেড়েছে চারগুনেরও বেশি।  তাহলে সামনের ১০০ বছর পরে কি হবে?  আর জনসংখ্যার এই বিস্ফোরণের প্রভাব আমাদের ভবিষ্যতের ওপর কেমন হবে? আগামীতে কি উদ্বাস্তুর সংখ্যা কি অতিরিক্ত বেড়ে যাবে? মানুষকে বাধ্য হয়ে অন্য কোন অঞ্চলে পাড়ি দিতে হবে? শহরের বস্তিগুলোতে উপচে পড়া মানুষ থাকবে? শহরগুলো কি মহাদেশের মতই বড় হয়ে যাবে? রোগ-জীবানু ,দূষণ,শক্তি/পানি/খাবারের জন্য সন্ত্রাস, বিশৃঙ্খলার মত সমস্যাগুলো ভয়াবহ আকার ধারন করবে? মানুষ কি শুধু নিজেদের বাঁচাতেই ব্যস্ত থাকবে? জনবিস্ফোরণ কি আমাদের জীবনযাত্রা ধ্বংস করে দিবে? নাকি এই সব ভবিষ্যৎবানী ভিত্তিহীন আশঙ্কা ছাড়া আর কিছুই না? চলুন দেখে নেই ১৯৬০ সালের দিকে, জনসংখ্যা বৃদ্ধির হা...

অন্তিমযাত্রার পথে নাসার ভয়েজার প্রোবঃ চিরবিদায়ের হাতছানি

১৯৭৭ সালের আগস্ট আর সেপ্টেম্বর মাসে পৃথিবীর মায়া কাটিয়ে মহাশুন্যের পথে তাদের অসীম যাত্রা শুরু করে নাসার ভয়েজার ১ আর ২ নামের দুটি স্পেস প্রোব। 🚀 তারা শুধু পৃথিবী নয়, আমাদের সুবিশাল সৌরজগৎ পেরিয়েও এগিয়ে গেছে আরো অনেক দূর। ভয়েজার ১ আর ২ এর মিশন শেষ হয়ে যাবে মাত্র ৫ বছরেই , শুরুতে এমনটা ধারণা করা হলেও দূরদর্শী বিজ্ঞানী আর ইঞ্জিনিয়ারদের প্রচেস্টায় আজ ৪৭ বছর পরেও সচল আছে প্রোব দুটি। কিন্তু সবকিছুরই শেষ আছে। আজ প্রায় অর্ধশতাব্দি পর আমরা জানতে পেরেছি ভয়েজার ১ আর ২ তাদের জীবনকালের প্রায় শেষ পর্যায়ে পৌঁছে গেছে। আর কিছুদিন পরেই হয়তো মানব সভ্যতার এই অমূল্য নিদর্শন চিরতরে হারিয়ে যাবে মহাশূন্যের অতল গহবরে। কিভাবে? আসুন দেখে নেই।